Tuesday , July 5 2022
Breaking News
Home / সুজানগর / স্কুলে না গিয়েও ৪ মাস ধরে বেতন তুলছেন শিক্ষক!

স্কুলে না গিয়েও ৪ মাস ধরে বেতন তুলছেন শিক্ষক!

এম এ আলিম রিপন
প্রায় ৪ মাস ধরে বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ২ দিন বিদ্যালয়ে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। ওই সময় তাকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে আনিসুর রহমান খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে আনিসুর রহমার শিক্ষকতার পাশাপাশি জেকা বাজার লিমিটেড নামে অবৈধ একটি এমএলএম কোম্পানির পাবনা শাখার এজেন্ট হিসেবে যুক্ত হয়ে স্থানীয় মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তদের উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই কোম্পানির প্রতারণার বিষয়টি ধরা পরার পর গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য চাপ দিলে কোম্পানির স্থানীয় খলিলপুর শাখাটি বন্ধ করে কোম্পানির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর সাইদুল বাশার ও এজেন্ট আনিস মাষ্টার উধাও হন। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান না করানো সহ স্কুল শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠেছে ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন। জাহাঙ্গীর আলম ও নূর আলী নামে খলিলুপর উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক জানান, এক লাখ টাকায় প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে লাভ হবে এই প্রলোভনে পড়ে শিক্ষক আনিসের মাধ্যমে আমরা এমএলএম কোম্পানি জেকা বাজারে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্ত অবৈধ এই কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় গ্রাহকদের চাপে শিক্ষক আনিস মাষ্টার ও বাশার কয়েক মাস আগে এলাকা থেকে উধাও হয়েছেন। বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলনের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিনুজ্জামান শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে ৩দিনের ছুটির দরখাস্ত দিয়ে প্রায় ৪ মাস ধরে বিদ্যালয়ে না এসেও নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করছেন শিক্ষক আনিসুর রহমান। একাধিকবার ওই শিক্ষককে মোবাইলে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসার জন্য বলা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না। অভিযুক্ত শিক্ষক আনিসুর রহমান বিদ্যালয়ে গত কয়েক মাস উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে শুক্রবার মোবাইল ফোন কলে যুগান্তরকে জানান, যেখানে আমার নিজের জীবনেরই নিরাপত্তা নেই সেখানে আমি কিভাবে বিদ্যালয়ে যাব। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমি স্থানীয় মনসুর রহমান নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে জেকা বাজার নামে ওই কোম্পানিতে যুক্ত হই । এবং আমি সহ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রায় ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন দিশেহারা। কোম্পানি থেকে টাকা ফেরত পেতে গত ফেব্রয়ারী মাসের ২০ তারিখে পাবনা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ(শোকজ) প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. রওশন আলী জানান, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম, খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About admin

Check Also

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ সহ ১১ দফা দাবিতে সুজানগরে সভা

এম এ আলিম রিপন মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ সহ ১১ দফা দাবিতে সুজানগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.