Breaking News
Home / চাটমোহর / ভাঙ্গুড়ায় অবৈধ ক্লিনিক আড়াল করার চেষ্টা!

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধ ক্লিনিক আড়াল করার চেষ্টা!

ভাঙ্গুড় প্রতিনিধি ॥ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা বিষয় নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: হালিমা খানম (লিমা)। বুধবার (১ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনফারেন্স রুমে এ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গত ২৯ মে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আলামিন হোসেন ও মেডিকেল অফিসার শাহিন রেজাকে নিয়ে তিনি উপজেলার ৮টি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এ উপজেলায় অবৈধ কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নেই। তার এ বক্তব্য নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধনধারী ক্লিনিক বা ডায়ানগস্টিক মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ হিসাবে ওই কর্মকর্তা জানান, নিবন্ধন আপডেট করতে তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরে ৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মধ্যে ৬টির রেজিষ্ট্রেশন নবায়ন করা নেই। বড়াল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০১৮/১৯ পর্যন্ত, হেল্থ কেয়ার হাসপাতাল এন্ড লিমিটেড, ইউনিকেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিরাপদ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রোমান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০২০/২১ পর্যন্ত, তাহিয়া ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০২১/২২ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ক্লিনিকের মূল ফটকে নামী দামি চিকিৎসকের নাম সংবলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা। এসব প্রতিষ্ঠানের রয়েছে একদল দালাল। কোন রোগী সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসলেই ওইসব দালাল উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ নিজ প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আবাসিক চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নেই। কারো কারো প্রচারপত্রে যেসব টেস্টের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো পরীক্ষার সামর্থও তাদের নেই। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও নার্সের অভাব রয়েছে। কোনো কোনো চিকিৎসকের আবার বিএমডিসির সনদ নাই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে রোগীরা প্রায়ই ভুল চিকিৎসার শিকার হন। তারপরও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অদৃশ্য শক্তির বলে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অবাধে তাদের ক্লিনিকগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ৪ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- উপজেলার পাটুলীপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের স্ত্রী রুপালি খাতুন (৩৫)। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলকতি গ্রামের মাসুদুর রহমানের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (২৯)। উপজেলার বেতুয়ান গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া আক্তার সুমাইয়া (১১) ও পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের চিথুলয়িা চরপাড়া গ্রামের সুজন আলীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (২৬)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লিনিকের মালিক বলেন, চিকিৎসকেরা কোনো না কোনো ক্লিনিকে প্রাকটিস করেন। তাই তারা অনেক বিষয় গোপন করছেন। এতে সরকারের সাঁড়াশি অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, প্রেস ব্রিফিংয়ের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া এখানে কয়টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে সেব সম্পর্কে কোনো নথি ইউএনও অফিসে দেওয়া হয়নি। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।

Check Also

চাটমোহরে তাজা ও বিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

চাটমোহর প্রতিনিধি চাটমোহর পৌর শহরের আফ্রাতপাড়া মহল্লায় বিএনপি নেতা হাসাদুল ইসলাম হীরার মালিকানাধিন ডায়মন্ড ফুড …

চাটমোহরে ট্রলির চাপায় শিক্ষক নিহত

চাটমোহর প্রতিনিধি চাটমোহর-জোনাইল সড়কের চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের সোন্দভা নামক স্থানে খড়ি বোঝাই ট্রলির নিচে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *