Breaking News
Home / সাঁথিয়া / বেড়ায় জলাতঙ্ক নিমূ’লে উপজেলায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বেড়ায় জলাতঙ্ক নিমূ’লে উপজেলায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

পাবনার বেড়ায় গতকাল মঙ্গল বার সকাল ১১টায় জলাতঙ্ক নিমূ’লে উপজেলায় পর্যায়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত। ডাঃ সাকিলা খাতুনের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন। বেড়া উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মককা ডাঃ মিজানুর রহমান সহ বিভিন্ন বক্তারা বক্তব্যে বলেন
জলাতঙ্ক ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। মূলত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে এ রোগ ছড়ায়। এই রোগকে হাইড্রোফোবিয়া বা পাগলা রোগও বলা হয়। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি পানি দেখলেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রতিবছর জলাতঙ্ক রোগে বহু মানুষ মারা যায়। কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সরকারের পক্ষ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের অংশ হিসেবে কুকুরকে টিকা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। অতীতে বর্বর কায়দায় কুকুর নিধন করা হতো। এভাবে কুকুর নিধনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা দূর করতে প্রাণী কল্যাণ আইন কার্যকর হওয়ায় এর কোনো সুযোগও নেই। ফলে কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণীটি যাতে কোনোভাবেই জনস্বাস্থ্য ও জনদুর্ভোগের কারণ না হয়, সেদিকে মনোযোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সহজেই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।
তবে কুকুরকে শুধু জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বন্ধ্যা করার কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এটা জরুরি। তা না হলে কুকুরের বংশ বৃদ্ধি ঘটতেই থাকবে, যা জলাতঙ্ক দূর করার টিকাদান কর্মসূচিকে ব্যাহত করতে পারে। একটি এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে খাবারের অভাব ও ভারসাম্যের সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত প্রাণী কল্যাণ নিয়ে কাজ করে—এমন সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া। উন্নত বিশ্বে বেওয়ারিশ বা পথ-কুকুরদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামাজিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এভাবে বেওয়ারিশ কুকুরেরাও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে।
চলতি বছর সংসদে পাস হওয়া ‘প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯’ অনুযায়ী কোনো প্রাণী হত্যা করলে ছয় মাসের জেল অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে প্রাণীর প্রতি যেকোনো ধরনের নিষ্ঠুরতা মোকাবিলা করা সম্ভব। চুয়াডাঙ্গায় কুকুরকে টিকা দেওয়ার যে কর্মসূচি চালু হয়েছে, তা সারা দেশে কার্যকর করা গেলে কুকুরের প্রতি নিষ্ঠুরতা যেমন কমে আসবে, তেমনি জনগণও জলাতঙ্ক রোগের বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে।

Check Also

বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় নেতৃত্ব দিবে কৃষক- ডেপুটি স্পীকার

মহামারী কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সারাবিশ্বে খাদ্য-সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্য-বৃদ্ধি চরম আকার ধারণ …

সাঁথিয়ার ইউএনও’র আতাইকুলায় রাস্তার যানজট ও বাজার মনিটরিং

সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাইকুলা বাজারের হাইওয়ে রাস্তার উপর বিভিন্ন যান বহন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *