Breaking News
Home / সাঁথিয়া / বেড়ার চরাঞ্চলে মাষকলাই চাষে ব্যস্ত কৃষক

বেড়ার চরাঞ্চলে মাষকলাই চাষে ব্যস্ত কৃষক

নির্মল সরকার
পাবনার বেড়া উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন মাষকলাই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার সিংহভাগ মাষকলাই বীজ হিসেবে আবাদ হয় চরাঞ্চলে। সরেজমিনে চরনাকালিয়া, চরসাঁড়াশিয়া, চর বেঙ্গালিয়া, চরনাগদাহ গ্রামে ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা ঘুম থেকে উঠেই মাষকলাই বীজ নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন খেতে বোনার জন্যে। কেউবা খেত পরিচর্যা করছেন, কেউ কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন, কেউ আবার মই দিয়ে জমির উর্বরতা সমান করছেন। আবার যে সব জমি এ বছর বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়েছিল সে সব জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ না করে ঘাসের জমির মধ্যেই কৃষকরা মাষকলাই বীজ ছিটায়ে বোনার কাজ করছেন। শুক্রবার সরেজমিনে গেলে কথা হয় চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের কৃষক সাত্তার বেপারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই আশি^ন মাসের শুরু থেকেই ক্ষেত পরিচর্যা করে মাষকলাই চাষের উপযোগী করতে হয়। তবে জমি গুলোতে যদি বর্ষার পানি ওঠে তাহলে কোনো চাষ লাগেনা। পানি নেমে যাওয়ার পর খেতে মাষকলাই বীজ ছিটায়ে দিলেই মাষকলাই ফসল জন্মে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে মাষকলাইয়ের ফলন পাওয়া যায়। চরাঞ্চলের অর্থকরী ফসলের মধ্যে মাষকলাই লাভ জনক একটি ফসল। তিনি প্রতি বছরই ২-৩ বিঘা জমিতে মাষকলাইয়ের আবাদ করেন। একই গ্রামের কৃষক আমজাদ মোল্লা বলেন, গত বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাই এ বছর তিনি ৮ বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করবেন। ইতিমধ্যে ৫ বিঘা জমিতে মাষকলাই বীজ ছিটায়ে বোনার কাজ শেষ করেছেন। বাকী ৩ বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষের জন্য প্রস্তুতি চলছে। চর নাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, এ বছর ১৪ বিঘা জমিতে মাষকলাই আবাদ করেছি। ওই গ্রামের কৃষক ওমর মোল্লা বলেন, গত বছর ৪ বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করেছিলাম। চার বিঘা জমিতে ১৫ মণ মাষকলাই উৎপাদন হয়েছিল। ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৮শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি করে লাভবান হয়েছিলাম। এ বছর ক্ষেতে মাষকলাই বোনার জন্য বাজার থেকে ১‘শ টাকা কেজি দরে মাষকলাই বীজ কিনে এনে খেতে বুনেছি। তবে এ বছর মাষকলাই চাষের জমি ১ বিঘা বাড়িয়ে দিয়েছি। পেচাকোলা গ্রামের ইউপি সদস্য সিল্টু শেখ বলেন, ১৪-১৫ বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করে থাকি। এটি খুবই লাভজনক ফসল প্রতিবিঘা জমিতে সব মিলিয়ে ২ থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘেতে ৩ থেকে ৪ মণ করে মাষকলাই ফলন হয়। মৌসুমের সময় প্রতি মণ মাষকলাই বিক্রি হয় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে যদি ঘাস বিক্রি করি তাতে অনেক লাভ হয়। চরনাকালিয়া গ্রামের নবী মোল্লা বলেন, এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে মাষকলাই আবাদ করেছে। ১ বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ কেজি করে বীজ লাগে। সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা সর্বোচ্চ খরচ হয়। প্রতি বিঘাতে সর্বনি¤œ ৩ থেকে সাড়ে ৩ মণ মাষকলাই ফলন হয়। বিক্রি হয় প্রতি মণ তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। তাতে কৃষকের ভালোই লাভ হয়ে থাকে। বর্তমান বাজারে মাষকলাই বীজ ১‘শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। চরবেঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক হযরত আলী ৩০ বিঘা, চরনাকালিয়া গ্রামের কৃষক আতিয়ার ১৫ বিঘা, খালেক শেখ ১০ বিঘা, আ. জলিল ৮ বিঘা, রহমান মোল্লা ১৫ বিঘা, পেচাকোলা গ্রামের পরেন শেখ এ বছর ২২ বিঘা জমিতে মাষকলাই আবাদ করেছেন এবং চাষের জন্য জমি তৈরী করছেন। দেরিতে বর্ষা হওয়ার কারনে মাষকালই চাষ কিছুটা সময় পিছিয়ে গেছে। তারা বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ জমিতে মাষকলাই বীজ ছিটায়ে ও চাষ দিয়ে বোনা হয়েছে। বাকী জমিগুলোতে কয়েকদিনের মধ্যে বোনার কাজ শেষ হবে। এ কৃষকরা আরো বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের সব জমি পানিতে প্লাবিত না হওয়ায় অনেক জমিতে লাঙ্গল বা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরী করতে হয়েছে বা হচ্ছে। এ কারণে বিঘা প্রতি প্রায় ৪শ’ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে চাষীদের।
অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বীজের জন্য মাষকালাই চাষ করা হয়ে থাকে কিন্ত গত বর্ষা মৌসুম দেরীতে শুরু হওয়ার কারনে মাষকালাই আবাদও কিছুটা সময় পিছিয়ে পড়েছে। তবে গো-খাদ্য হিসেবে মাষকালাই চাষ পুরো অক্টোবর মাস ধরে চলবে বলে জানান বেড়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.ইউছুব আলী। বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূসরাত কবীর বলেন, ইতিমধ্যে সরকারী ভাবে উপজেলার ৫৪০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে টিএসপি, পটাশ, ইউরিয়া সার ও ৫ কেজি করে মাষকলাই বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর এ উপজেলায় মাষকলাই চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২ হাজার হেক্টর জমিতে। মাষকালই (ডাল) বীজ এবং ঘাস (গো-খাদ্য) এর দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২শ’হেক্টর বেশী জমিতে মাষকালাইয়ের চাষ হবে বলে ধরনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান,বেড়ার উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা,নতুন ভারেঙ্গা,রুপপুর ও ঢালারচর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ১৩শ’ থেকে সাড়ে ১৩শ’হেক্টর জমিতে মাষকালাই বীজ তৈরীর জন্য মাষকালাই চাষ করা হয়ে থাকে। উপজেলার বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধের ভিতর এলাকা সহ চরাঞ্চলের ব্যাপক এলাকায় মাষকালাই চাষ হয়। গো-খাদ্য হিসেবে প্রায় ৭শ’ হেক্টর থেকে সাড়ে ৮শ’ হেক্টর জমিতে চাষীরা মাষকালাই চাষ করে থাকেন।

Check Also

কৃষক-উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সরকার- ডেপুটি স্পীকার

কৃষকদের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে …

সাঁথিয়ায় আ’লীগ নেতাসহ আটক : ৩ মাদক ব্যবসায়ী ২ কনস্টেবল আহত

পিপ : পাবনার সাঁথিয়ায় আ’লীগের নেতাসহ ৩জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পাবনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *