Sunday , October 2 2022
Breaking News
Home / পাবনা সদর / বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃষ্টিশীল মানবিক জাতি গঠনের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃষ্টিশীল মানবিক জাতি গঠনের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী

শৈশব থেকে সেই সময়ের চেনা পরিবেশে সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য দেখে প্রতিবাদী কিশোর হিসেবে গড়ে ওঠেন শেখ মুজিবুর রহমান। জীবনের পথ পরিক্রমায় ছাত্ররাজনীতি, জাতীয় রাজনীতি, বাঙালির মুক্তির জন্য সারাদেশে সংগঠন গড়ে তোলা, জাতিকে প্রস্তুত করা, ৬ দফার আন্দোলন, সর্বোপরি ২৪ বছরের আন্দোলন- সংগ্রাম এবং ৭০’র নির্বাচনে বিজয় অর্জন সবই ছিল বঙ্গবন্ধু দূরদর্শিতা আর বাঙালির মুক্তির আকাক্সক্ষাকে ধারণ করার ক্ষমতা। ৭১ এর ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার সকল প্রস্তুতির কথা বলা। অবশেষে শেখ মুজিবের নামে দেশের স্বাধীনতা অর্জন। ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বরের পরে সারা বিশ্ব শেখ মুজিবের নামে বাংলাদেশকে চিনেছে -জেনেছে। শেখ মুজিবের নামে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করেছে। শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ। এ জন্য বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ জাতি-রাষ্ট্রের মহানায়ক। আজ শুক্রবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা বলেন। সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে পৌছে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, উপাচার্য ও অতিথিদের সাথে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জম্মশত বর্ষের স্মারক মুর‌্যাল ‘জনক জোত্যির্ময়’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধ জানান। এরপর ক্যাম্পাসে স্বাধীনতা চত্বরে আজ সকালে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করার পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুনের সভাপতিত্বে ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহানায়ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলার মাটি আর মানুষের সন্তান। অনেক নেতা থাকলেও বঙ্গবন্ধু বাঙালির হাজার বছরের বঞ্চনা, বৈষম্য, নিগ্রহ, শোষিত হওয়া, দারিদ্র্য সাম্প্রদায়িকতা দেখেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন বৈষম্য, বঞ্চনা থেকে মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি বাঙালির মুক্তির প্রাণের তৃষ্ণাকে ধারণ করে আন্দোলন সংগ্রাম করে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা এনে দেন। তিনি বাঙালির প্রাণের আকাক্সক্ষাকে ধরতে পেরেছিলেন। তাই ২৪ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে বাঙালির আর নিজের মুক্তির তৃষ্ণা এক কাতারে এনে ৭ মার্চের ভাষণ অতপর স্বাধীনতার আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুর মত আর কেউ বাংলা আর বাঙালিকে ধারণ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় শব্দ ছিল মুক্তি। বাঙালির হাজার বছরের কাঙ্খিত মুক্তি তিনি এনে দিয়েছিলেন। বাঙালি রাষ্ট্রের বিনির্মাণ, অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক তথা মুক্তির দূত হয়ে তিনি বাঙালি ও বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছিলেন। তাই তিনিই তো বাংলাদেশ জাতি- রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহানায়ক।
প্রধান অতিথি ডা. দীপু মনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনের দিকগুলি দেখলে দেখা যায় সেই সময়ে বিশ্বের অনেক জাতীয়তাবাদী নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শোষিতের গণতন্ত্রের কথা বলেছিলেন। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গণতন্ত্র ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলেছিলেন। তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক-সমাজতান্ত্রিক। বঙ্গবন্ধু মানুষকে চিনতেন, বুঝতে পারতেন। মানুষের হৃদয়কে বুঝতেন। ৭০ এর নির্বাচনের বিজয়ের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীনতার অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাঙালির নেতৃত্বের আসনে তিনি মহানায়ক। প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার কান্ডারি। পড়ালেখাকে আনন্দময় করার জন্য প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজ্ঞান মনস্ক, প্রযুক্তি মনস্ক, মানবিক সৃষ্টিশীল জাতি গঠনের উপযোগী শিক্ষা নীতিমালা করা হয়েছে। এজন্য শিক্ষক-অভিভাবকদেরও অনেক ভূমিকা রয়েছে। প্রধান অতিথি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।একাত্তরের ঘাতক, পচাত্তরের ঘাতক, ২০০৪’র গ্রেনেড হামলাকারীরা এবং ২০১৩-২০১৪ এর অগ্নি সন্ত্রাসীরা এক ও অভিন্ন। আজও তারা আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর জন্য চেষ্টা করছে। এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথি পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আমাদের সামনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আছে। তাঁর আদর্শকে বাস্তবায়ন করলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।
বিশেষ অতিথি পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনা আদর্শ মূূল্যবোধ জানতে হবে । বঙ্গবন্ধুকে ঠিকমতো আত্মস্থ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের চলার পথকে সুগম করে দিয়ে গেছেন। আমরা তার দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে চলেছি। তাঁরই রক্ত এদেশেকে পরিচালিত করছে। আমাদের সন্তানদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিতে পারলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তখনই পুরোপুরিভাবে গড়ে উঠবে এবং সোনার ছাত্ররা যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নুরজাহান বেগম বলেন, আগস্ট কলঙ্কিত মাস।
স্বাগত বক্তব্যে দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম মোস্তফা কামাল খান বলেন,প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করব।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালির ভালোবাসার কাঙ্গাল। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ইচ্ছায় এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্ত চিন্তার জায়গা। সেজন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছি। আমাদের পরিবার শৃঙ্খলাবদ্ধ। শিক্ষা-গবেষণার উৎকর্ষতা বাড়াতে চাই। আমাদের ভিশন আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ে। আমার বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটা গড়ে তুলব।
শিক্ষা ও গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মারক সম্মানা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রবীণ শিক্ষক লতিফা শামসুদ্দিন তাঁর লেখা বই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

About admin

Check Also

রণেশ মৈত্রের মরদেহে ডেপুটি স্পীকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

জাতির পিতার একজন প্রিয় মানুষ ছিলেন রণেশ মৈত্র। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে তাঁর ছিল সাবলীল পদচারণা। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.