Sunday , October 2 2022
Breaking News
Home / চাটমোহর / বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী নিয়ে তামাশা; চাটমোহরের কুমারগাড়া সর. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপনের পরিবর্তে নিমের ডাল মাটিতে পুঁতে ফটোসেশন করলেন প্রধান শিক্ষিকা!

বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী নিয়ে তামাশা; চাটমোহরের কুমারগাড়া সর. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপনের পরিবর্তে নিমের ডাল মাটিতে পুঁতে ফটোসেশন করলেন প্রধান শিক্ষিকা!

চাটমোহর প্রতিনিধি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চাটমোহরের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন করার কথা। কিন্তু উপজেলার কৃমারগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপনের পরিবর্তে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী নিয়ে তামাশা করেছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মুকিতুন নাহার। তিনি তার সহকর্মীদের নিয়ে নিমগাছের ডাল কেটে এনে তা মাটিতে পুঁতে ফটোসেশন করে ফেসবুকে দিয়েছেন। সেই ছবি জমা দেওয়া হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসেও। বিষয়টি জানেন না বিদ্যলয়ের সভাপতি,সহ-সভাপতিসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাও। ফেসবুকে দেওয়ার পর ব্যাপারটি জানাজানি হয়। গত বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) গাছের ডাল পুঁতে ফটোসেশন করা ছাড়াও প্রকৃতিগতভাবে স্কুলের পশ্চিম পাশে জঙ্গলের ভেতর বেড়ে ওঠা একটি তাল গাছ ধরেও ছবি উঠেছের এই প্রধান শিক্ষিকা। জানাজানি হওয়ার পর গত সোমবার (১৫ আগস্ট) নিমগাছের মরা ডালটি তুলে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) স্কুলে গিয়ে দেখা যায় নিম গাছের ডালটি স্কুল মাঠে পড়ে আছে। ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান,এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। প্রধান শিক্ষিকা নিজেই সবকিছু করেছেন। গাছের ডাল লাগিয়ে গাছের চারা রোপনের নাটক করেছেন। একই কথা বললেন ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মোঃ শাহ আলম। তিনি বলেন প্রধান শিক্ষক ইচ্ছেমতো সব করেন। গাছ লাগানোর নাটকও তিনি করেছেন। গাছ না লাগিয়েই গাছ লাগানোর ছবি তুলেছেন।
এ ব্যাপরটি ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী জানার পর প্রধান শিক্ষিকাসহ দোষিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান,গাছ লাগানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রধান শিক্ষিকা কিছুই জানায়নি।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মুকিতুন নাহার প্রথমে কোন খবর না লেখার জন্য এবং হয়রানী না করার জন্য বলেন। পরে গাছের ডাল লাগিয়ে ফটোসেশন করার কথা বললে তিনি বলেন,এটা জাতীয় শোক দিবসে করা হয়নি। আমি পরে বৃক্ষরোপন করবো সবাইকে নিয়ে। গাছের ডাল লাগিয়ে ছবি তোলা ভুল হয়েছে। তিনি পত্রিকায় বিষয়টি না লেখার জন্য বারবার বলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ষভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নজরুল ইসলাম বললেন,এটা জাতির পিতার প্রতি চরম অবমাননা। সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষিকা। আমি ওই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার মোঃ মাহবুবুর রহমান বললেন,এমনটা হলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ মমতাজ মহল বললেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাকে কিছু বলেননি। আপনার কাছে শুনলাম।
উল্লেখ্য,কুমারগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ৮জন শিক্ষক রয়েছেন। এখানে নিয়মিত ক্লাস হয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। তদবির করে এলাকার শিক্ষকরাই এখানে চাকুরি করছেন বছরের পর বছর। অথচ প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলে শিক্ষকের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে কর্র্তপক্ষের পদক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

About admin

Check Also

খেলা চালাতে স্কুল মাঠে বিষপ্রয়োগ!

চাটমোহর প্রতিনিধি পাবনার চাটমোহরে ফুটবল টুর্ণামেন্টের খেলা চালাতে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে সরকারি স্কুল মাঠে। গত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.