Breaking News
Home / পাবনা সদর / পাবনায় কৃষক হত্যা মামলায় ২১ জনের যাবজ্জীবন

পাবনায় কৃষক হত্যা মামলায় ২১ জনের যাবজ্জীবন

পাবনায় ২৪ বছর পর কৃষক আব্দুস সালাম হত্যা মামলায় ২১ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অস্ত্র মামলায় একজনকে ১০ বছর এবং আরেক জনকে ৭ বছরের জেল দেয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ এর আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান মুন্নী এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা আসামীরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার ভাদুরীডাঙ্গী গ্রামের সোবাহান মোল্লার ছেলে শাহজাহান মোল্লা, আব্দুল বাছেদ শেখের ছেলে মিনহাজ, শাকের মোল্লার তিন ছেলে নবী শেখ, সুলতান মাহমুদ ও মোক্তার মোল্লা, মৃত ছোবা শেখের ছেলে বাছেদ শেখ, ইনাই খাঁর ছেলে আইয়ুব খাঁ, আমির মোল্লার ছেলে আসলাম, গফুর মোল্লার ছেলে লতিফ মোল্লা, রস্তম মোল্লার ছেলে ছোবাই মোল্লা, বাহাই প্রামানিকের ছেলে কালাম, আকুল মোল্লার ছেলে মহির মোল্লা, হাচেন মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আলী মোল্লা ও রেজাউল মোল্লা, গফুর মোল্লার ছেলে বাবু মোল্লা, সুজানগর উপজেলার চর ভবানীপুর গ্রামের করিম মোল্লার দুই ছেলে মোকছেদ মোল্লা ও বারেক মোল্লা, মৃত বশির মোল্লার ছেলে করিম মোল্লা, ভবানীপুর কাচারী মাঠ পাড়ারœ আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে খোকন, মানিকদিয়ার গ্রামের হবিবরের ছেলে রফিক এবং সদর উপজেলার কোলচুরি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বাবলু উদ্দিন। এদের মধ্যে বারেক, মিনহাজ, বাবলু, বাছেদ শেখ, লতিফ মোল্লা ও ছোবাই মোল্লা পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আব্দুল সালামের ভাই শহীদ এম মনসুর আলী কলেঝের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, বিএনপি জোট সরকারের আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে ৮জনকে ৪৯৪ ধারায় অব্যহতি দেয়া হয়েছিল। পরে হাইকোর্টের নির্দেশনায় তাদেরকে আবার অন্তভুক্ত করা হয়। মামলায় তদবির করার কারণে ২০১২ সালে আমাকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্ঠা চালানো হয়েছিল। আমি ব্যাপক জখম হলেও প্রণে বেচে যাই। সে মামলাও চলমান আছে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৭ নভেম্বর পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরী ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জমিতে কাজ করছিলেন। এসময় পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা তাকে পেছন থেকে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ সালাম মাটিতে পড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সালামের ভাই আব্দুল জব্বার। পুলিশ ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। মামলা চলাকালিন ৩ জন আসামির মৃত্যু হয়। দীর্ঘ স্বাক্ষী ও শুনানি শেষে সোমবার ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার। বাদী পক্ষের উকিল ছিলেন এ্যাড. ইতি হোসেন স্বপ্না ও এ্যাড. আব্দুর রহিম এবং রাষ্ট্রপক্ষ পক্ষে শুনানি করেন সরকারি কৌশুলি (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

Check Also

জনগনের কল্যাণে রাজনীতি করে যেতে হবে -ডেপুটি স্পীকার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে হলে জনগনের চাহিদা …

১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিএনপি মানুষের মধ্যে গুজব ছড়াচ্ছে-সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

পিপ : আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির চেয়ারম্যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *