Tuesday , July 5 2022
Breaking News
Home / সুজানগর / নির্বাচনকালীন সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান

নির্বাচনকালীন সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান

এম এ আলিম রিপন

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । সেই নির্বাচন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কে অংশগ্রহন করলো আর কে করলো না সেটা দেখার বিষয় নয়। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। শনিবার পাবনার আমিনপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে নবগঠিত আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতা বিরোধী অশুভ রাজনৈতিক দলগুলো যদি ফের রাজপথ দখলের অপচেষ্টা করে, দেশে নতুন ভাবে নৈরাজ্য তৈরির অপচেষ্টা করে অথবা রাজপথ দখলের নামে মানুষ পোড়ানোর অপচেষ্টা করে; তাহলে তাদের দাতভাঙা জবাব দিতে হবে। এজন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের চোখ-কাল খোলা রাখতে হবে। আব্দুর রহমান বলেন, ৭৫’এ ১৫ আগস্ট এর পর পিতা হারানোর বেদনা ও কষ্ট নিয়ে দেশের মাটিতে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সারা বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রিয় নেত্রীকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে এসেছিলেন। সেদিন বুকভরা কষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমার জীবনে কখনও আমি ভাবি নাই রাজনীতিতে আমাকে আসতে হবে। কখনও ভাবি নাই পিতা হত্যার বিচার করতে আমার জীবন উৎসর্গ করতে হবে। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ওই খুনীদের বিচার বাংলার মাটিতে আমি করব। বলেছিলেন, আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু) যে স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করতে চেয়েছিলেন, আমি তা বাস্তবায়ন করব। আজ তিনি যে স্বপ্ন নিয়ে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোনো ষড়যন্ত্র যেনো বাঁধা হয়ে দাড়াতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনার এই উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাঁধাগ্রস্ত করতে পারবে না।তিনি বলেন, ৭৫’এ ১৫ আগস্ট। ভোরের সূর্য তখনও আমাদের ঘরে পৌঁছায়নি। ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা শুনেছিলাম আমাদের পিতা বঙ্গবন্ধু আর নেই। তার লাশ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে পড়ে ছিল। সেদিন ইতিহাসের রক্তাক্ত বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা আমরা দেখেছিলাম। হত্যার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ডাক পাইনি। অনেক যন্ত্রণা, বেদনা, কষ্ট ও আর্তনাত বুকে চেপে রেখেছিলাম। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে বাংলাদেশের বুকে গুলি করা হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেতনাকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে হত্যা করা হয়েছিল।আব্দুর রহমান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে পকিস্তানের আদলে তৈরির ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করেছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। জিয়া জানতো না তাকেই নিষ্ঠুর হত্যার কা-ের শিকার হতে হবে। এমন ভাগ্য বরণ করতে হবে। তার লাশও সেদিন পাওয়া যায়নি। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করতে পারবে না, করলেও সাধারণ মানুষ সেই সেতু দিয়ে চলাচল করবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো এরকম প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়। আগামী জুন মাসেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে। এদিন সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল রহিম লাল। আমিনপুর থানা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শ্রী অনিল কু-ু সাহার সভাপতিত্বে ও যুগ্ন আহ্বায়ক রেজাউল হক বাবুর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি। অতিথির বক্তব্য রাখেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড.মজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান উজ্জল, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আহাদ বাবু, প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন, সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব, সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ। সভায় সুজানগর উপজেলা,বেড়া উপজেলা,সাঁথিয়া উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দুপুরে কাশীনাথপুর ডাক বাংলোয় দ্বিতীয় অধিবেশনে ইউসুফ আলী খান সভাপতি ও বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সাথে এ এম রফিকুল্লাহ, শাহীন চৌধুরী ও সুষমা সাহাকে সহ সভাপতি এবং এজাজ আহমেদ সোহাগকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আনোয়ারা খাতুনকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে নাম ঘোষণা দেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি।উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আমিনপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। থানা হওয়ার প্রায় ৮ বছর পর গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি,রাণীনগর ও আহম্মদপুর ইউনিয়ন সহ ৩ টি এবং বেড়া উপজেলার ঢালারচর,মাসুন্দিয়া, রুপপুর,জাতসাকিনিয়া ইউনিয়ন সহ ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আমিনপুর থানাকে সাংগঠনিক ইউনিট ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের এটি প্রথম সম্মেলন।

About admin

Check Also

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ সহ ১১ দফা দাবিতে সুজানগরে সভা

এম এ আলিম রিপন মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ সহ ১১ দফা দাবিতে সুজানগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.