মঙ্গলবার , ২৯ নভেম্বর ২০২২
Breaking News
Home / চাটমোহর / দখল ও ব্যাপক দূষণের শিকার বড়াল নদ

দখল ও ব্যাপক দূষণের শিকার বড়াল নদ

হেলালুর রহমান জুয়েল
এককালের ¯্রােতস্বিনী বড়াল নদ একণ ব্যাপক দূষণ আর দখলের শিকার। দখল-দূষণসহ নানা কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এক সময়ের প্রমত্ত নদ বড়াল। চলনবিল অঞ্চলের অন্যতম এই নদ রাজশাহীর চারঘাট পদ্মা থেকে উৎপত্তি হয়ে পাবনার হুরাসাগরে গিয়ে যমুনা নদীতে মিশেছে। ব্যাপক দূষণের কবলে পড়েছে বড়াল নদ। সেটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। বড়াল নদে হাট-বাজারের হোটেল রেস্তোরা আর গৃহস্থালি বর্জ্য,মুরগির বিষ্ঠা,পথিলিন ফেলায় তলদেশ ফুলেফেঁপে উঠেছে। নদের দুই পাড়ের অসংখ্য মুরগীর খামারের বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে নির্গত করা হচ্ছে বড়ালে। চাটমোহর পুরাতন বাজারের মাছ ও মুরগীর সকল বর্জ্যসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বড়ালে। দূষিত হচ্ছে আশপাশের এলাকার পরিবেশ। দূর্ঘন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে বড়াল পাড়ের মানুষের। একই সাথে অবৈধ দখলদাররা যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস ও ব্যবসা বাণিজ্যে পরিচালনা করে আসছেন। ধানসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে বড়াল নদে। দূষণের কারণে বেড়েছে মশার উৎপাত। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে খনন না করা,সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি কোনো উদ্যোগ না নেওয়া,অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করা, প্রশাসনের উদাসীনতাসহ নানা কারণে একসময়ের খর¯্রােতা বড়াল নদের এমন করুণ পরিণতি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভরা বর্ষা মৌসুমেও পানির দেখা নেই বড়ালে।
পানি না থাকায় নদী কেন্দ্রিীক সকল কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। দূষণ চলছে নানাভাবে। কিন্তু কারো কোন মাথাব্যাথা নেই।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,বড়াল নদের পাড় দখল করে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন বসতবাড়ি,দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। গৃহস্থালি বাড়ির বর্জ্যে দোকানপাটের উচ্ছিষ্ট পলিথিন ফেলা হচ্ছে বড়াল নদে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ কোনো কথা বলার সাহস পান না। অনেকেই নদের তলদেশে ধান,সবজির চাষ করছেন। বড়ালের পাড় দখল করে চাটমোহর পুরাতন বাজার এলাকায় পৌরসভার মার্কেট তৈরি করা হয়েছে।
চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব ও বাপার নির্বাহী পরিষদের সদস্য এস এম মিজানুর রহমান বললেন,আমরা নদী বাঁচাতে আন্দোলন করছি। নদ-নদী মানুষের জন্য আশির্বাদ। বড়াল নদসহ এ অঞ্চলের সকল নদ-নদী খননসহ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার দাবি আমাদের। দূষণরোধে পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।
তিনি বলেন,নদীকে বানানো হচ্ছে ময়লার ভাগাড়! নদীতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। দখল তো আছেই। আমরা সামাজিক সংগঠন হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। কিন্তু স্থানীয় এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদ-নদীরএমন করুণ পরিণতি।
চাটমোহর পৌরসভার মেয়র এ্যাড.সাখাওয়াত হোসেন সাখো বড়াল নদ দূষণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন,অনেক স্থানেই বড়ালের অস্তিত্ব নেই। চাটমোহরে যতটুকু আছে,তা দূষণ চলছে। বড়ালের অন্যান্য এলাকায় যে সকল দখল হয়েছে,তা উচ্ছেদ করা গেলেই বড়াল তার প্রাণ ফিরে যাবে। তিনি বলেন,পৌরসভা বড়াল পাড়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা নদীর জায়গা ছেড়ে দিয়ে রাস্তা ও পার্ক করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম বলেন,বড়ালের বিষয়টি নজরে এসেছে। নদ-নদী দখলকারীদের ব্যাপারে অতিসত্তর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দূষণরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Check Also

চাটমোহরে ট্রলির চাপায় শিক্ষক নিহত

চাটমোহর প্রতিনিধি চাটমোহর-জোনাইল সড়কের চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের সোন্দভা নামক স্থানে খড়ি বোঝাই ট্রলির নিচে …

অবৈধ লটারি বিক্রির অভিযোগে চাটমোহরে ভ্রাম্যমান আদালতে ৭ জন যুবকের কারাদন্ড

চাটমোহর প্রতিনিধি পাবনার ঈশ^রদীতে অনুষ্ঠিত তাঁত,বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলার নামে চাটমোহরে অবৈধ লটারি বিক্রির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *