Wednesday , August 17 2022
Breaking News
Home / চাটমোহর / চাটমোহরে শিক্ষার্থীর কপাল ফাটানেল শিক্ষিকা!

চাটমোহরে শিক্ষার্থীর কপাল ফাটানেল শিক্ষিকা!

বিশেষ প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে থাপ্পড় মেরে শুভ হোসেন (১১) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ফেলে দিয়ে কপাল ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে। গত রোববার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ছাইকোলা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২৭ জুন) মৌখিক অভিযোগে জানতে পেরে ইউএনও ঘটনা খতিয়ে দেখতে সহকারী শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন। আহত শুভ উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
অভিযোগে জানা গেছে,রোববার দুপুরে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষে ছুটি দেওয়ার পর দরজায় দাঁড়িয়েছিলেন সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীন। শিক্ষার্থীরা বের হতে ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভেতরে ঢুকতে গিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় পেছন থেকে শিক্ষার্থীদের ধাক্কায় শুভ হোসেন সামনে ছুটে গিয়ে সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীনের শরীরের সঙ্গে একটু ধাক্কা লাগে। এতে চরম ক্ষুব্ধ ওই সহকারী শিক্ষিকা শুভকে থাপ্পড় মারেন ও গলা ধরে ধাক্কা দিলে স্টিলের দরজার চৌকাঠের ওপর পড়ে কপাল ফেটে যায়। পরে তাকে অন্যান্য শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। ক্লাস করতে না পেরে শুভ ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়ে তার বাবা-মাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে শুভর বাবাসহ আত্মীয় স্বজন স্কুলে গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে সোমবার সকালে স্কুলে এ বিষয়ে উভয়পক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে জড়িত শিক্ষিকার বিচার চেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে বৈঠক ভেস্তে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি মৌখিকভাবে জানতে পেরে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে স্কুলে গিয়ে ঘটনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
শুভর বাবা নজরুল ইসলাম বলেন,আমি আমার সন্তানের ওপর এমন অত্যাচারের বিচার চাই। একজন শিক্ষিকা হয়ে এভাবে মারতে পারেন না।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীন বলেন,শুভকে মারা বা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষে ছুটি দিলে এক দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়ি হয়। আমি দরজায় দাঁড়িয়ে তাদের শৃঙ্খলভাবে বের হতে বলছিলাম। কিন্তু তারপরও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাড়াহুড়ো করে রুমে ঢুকতে গেলে তারা ধাক্কাধাক্কি করে আমার ওপর এসে পড়ে। এ সময় আমি দরজার ওপর পড়ে যাই। আর শুভ চৌকাঠের ওপর পড়ে কপাল ফেটে যায়। তারপরও অভিভাবকরা স্কুলে আসার পর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তারা শোনেননি।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে ঘটনা খতিয়ে দেখছি। সরেজমিনে স্কুল পরিদর্শন করে সবার বক্তব্য ও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রতিবেদন পেশ করবো। প্রকৃত ঘটনা যেটি সেই আলোকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এদিকে একাধিক সূত্র জানায়,তদন্ত শুরু হলে সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

About admin

Check Also

চাটমোহরে বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন

চাটমোহর প্রতিনিধি যথাযথ মর্যাদায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার (১৫ আগস্ট) পাবনার চাটমোহরে জাতির জনক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.